সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)

টানা তিনদিন শুনানির পর বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি আপিল করেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অপর আপিলটি করেন।

আদালতে সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া অপর আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবির।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে সুজন সম্পাদকসহ পাঁচ ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন হাইকোর্টে পৃথক রিট হয়। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর এই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ () অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে গণভোটের বিধান সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ (দ্বাদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে আনা) পুনর্বহাল করা হয়। সেই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল না করে, অন্য বিধানগুলোর বিষয়ে আইন অনুসারে পরবর্তী সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

বাসস