সিরিয়ায় আসাদের পতন: কাশ্মীর প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারালো ভারত
|
প্রকাশ : শনি ২৩ মে ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
সিরিয়ার অভ্যুত্থান নয়া দিল্লির জন্য বেশ বড় ধরনের সমস্যা বয়ে এনেছে: কাশ্মীর প্রশ্নে মধ্যপ্রাচ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম "কণ্ঠস্বরকে" হারিয়েছে ভারত।
নয়াদিল্লি যদিও দীর্ঘদিন ধরে বলেছে যে কাশ্মীর বিরোধ তার এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, কিন্তু জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রতি সিরিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনকে বড় ধরনের জয় হিসাবে দেখা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্কে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর কবির তানেজা বলেন,"আরব মুসলিম বিশ্বের মধ্যে থেকে সমর্থনের এই কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ ছিল।" বাশার আল-আসাদের অধীনে, সিরিয়া বারবার নিশ্চিত করেছে যে কাশ্মীর একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সমাধান করা।
এখন আসাদের পতনে সেই সমর্থনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিরোধী বাহিনী গত সপ্তাহান্তে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক দখল করে নিলে আসাদ পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। আসাদ পরিবারের কয়েক দশকের শাসনামলে গৃহযুদ্ধে দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সিরিয়ায় ঘটনাবলীর নাটকীয় মোড় দিল্লিকে হতচকিত করেছে। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও সিরিয়া সরকারের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে।
১৩ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের বেশিরভাগ সময়ে সিরিয়ার সংঘাতে ভারত “ধরি মাছ, না ছুঁই পানি” দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে।
দামেস্ক রণক্ষেত্র হয়ে উঠলেও সেখানে ভারতীয় দূতাবাস খোলা ছিল। এটি ভারতের সদিচ্ছার লক্ষণ ছিল বলে তানেজা মনে করেন। আসাদ সরকারের সাথে সম্পর্কও টিকে ছিল। আসাদের আস্থাভাজন সিরিয় কর্মকর্তা বুথাইনা শাবানসহ নিয়মিত দিল্লি সফর করতেন, যা দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন তুলে ধরে।
কিন্তু আসাদের পতন ভারতের উপর কিছু প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো এক সময় সিরিয়ার তেলক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছিল। তবে এক দশকেরও বেশি আগে সেই কাজগুলো পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। সিরিয়ায় ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাও হাতে গোনা - জাতিসংঘের কর্মীসহ "কয়েক ডজন" মাত্র।
এরপরও উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে সিরিয়ায় ক্ষমতার শূন্যতা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে উত্সাহিত করতে পারে। বিশেষ করে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর উৎপত্তি আল-কায়েদা থেকে।
দিল্লি-ভিত্তিক আরেক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের গবেষণা ফেলো পবন চৌরাসিয়া বলেন, " এইচটিএস সিরিয়ায় একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল হতে পারে এবং বৈশ্বিক জিহাদি আন্দোলনের জন্য চ্যালেঞ্জ হাজির করতে পারে।”
তিনি সিরিয়া সংঘাতের প্রথম দিকে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের দিকে ইঙ্গিত করেন, যা ভারতসহ সারা বিশ্ব থেকে তরুণদের দলে টানে। " এবারও একই রকম উদ্বেগ রয়েছে এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এটা চাইবে না।
সিরিয়ায় এইচটিএস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর শক্তি অর্জনের সম্ভাবনা ভারতের জন্য উদ্বেগের একটি অতিরিক্ত স্তর বহন করে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আসাদের পতনের পতন এবং কাশ্মীর নিয়ে তার ভারতপন্থী অবস্থানকে - কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা দিল্লির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ব্যবহার করতে পারে বলে চৌরাসিয়া সতর্ক করে দেন।
তিনি বলেন, এইচটিএস এই সমস্যাটিকে তার "বিশ্বাসযোগ্যতা" শক্তিশালী করতে ব্যবহার করতে পারে - দেখাতে পারে যে "ইসলামী মূল্যবোধ এবং ভ্রাতৃত্ব" প্রশ্নে তারা আসাদ সরকার থেকে আলাদা।
এটা কাশ্মীরে স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করে তোলার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
চৌরাসিয়া বলেন, "আসাদের পতন এবং এইচটিএসের উত্থানকে দক্ষিণ এশিয়ায় কিছু ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের কার্যক্রম জোরদার করার একটি সংকেত হিসেবে দেখতে পারে।”
তবে কোন বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে পাবে দিল্লি।
সৌদি আরব এবং ইরানের মতো প্রতিপক্ষের পাশাপাশি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় দিল্লির ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে রাশিয়ার আদিঘে স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ লিসা আইজ্যাক বলেন, "ভারত সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো কার্যকরভাবে নেভিগেট করবে।"
তবে সব বিশ্লেষকই আশাবাদী নন। চৌরাসিয়া সতর্ক করে দেন যে আসাদের পতন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে সিরিয়া এবং ভারত উভয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের প্রতি মনোযোগী হতে উত্সাহিত করতে পারে।
তিনি বলেন, " ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে তাহলে এটা ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এটি সম্ভবত দিল্লিকে পক্ষ নিতে বাধ্য করবে।
বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দাবি করেছেন যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চালে আসাদের পতন ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে প্রমাণ আছে এবং এই প্রমাণ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।”
গত সপ্তাহে, দিল্লি সিরিয়ার অভ্যুত্থানের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ওকালতি করে। কিন্তু "মহৎ উদ্দেশ্য" থাকলেও সিরিয়ার "ভবিষ্যত ঠিক করতে" ভারত সাহায্য করতে পারবে না বলে চৌরাসিয়া মনে করেন- শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সেটা করতে পারবে।
আপাতত, ভারত তাৎক্ষণিক উদ্বেগের প্রতি মনোনিবেশ করছে। বুধবার, সিরিয়া থেকে তার ৭৫ জন নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে। এসব নাগরিক সিরিয়া থেকে লেবাননে প্রবেশে করেছে ভারতমুখি ফ্লাইট ধরবে বলে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে অনুবাদ মাসুম বিল্লাহ
ইসরায়েলের
আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন
নেতানিয়াহুকে সরানোর সুযোগ পাবে বিরোধীরা। কিন্তু
এতে বিরোধী শিবিরেরই একাংশের আপত্তি আছে। নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক
ভোট ও আসন পাওয়া
আরব দ...
ভারতে
নারীর বিরুদ্ধে করা অপরাধে সবচেয়ে
বেশি অভিযুক্ত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য ও
বিধায়কেরা। ভারতে নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে
গবেষণা করে এমন একটা
সর্বভারতীয় সংস্থা এক সমীক্ষায় এমন
তথ্...
ভারতের
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদের
পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৭০০টি
পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
এদের প্রায় সবাই মুসলিম। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা
গেছে, মস...
ভারতের
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং জোর করে
দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে ধর্মীয় আচার
পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
একটি পরিবারের এক নারীক...
ইয়েমেনে
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির
মুখে আবারও তাদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের কয়েকটি
সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে,
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হ...
মধ্যপ্রাচ্যে
নানা দেশের মধ্যে অশান্তি সত্ত্বেও সৌদি আরব দীর্ঘদিন
ধরেই নিজেকে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল
হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিল।কিন্তু
সৌদির রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা ...
কারাবন্দি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার পর রোববার (১১ অক্টোবর)
পাকিস্তানের পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ...
যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের পথে এগিয়ে চলেছে। হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও ধর্মীয় স্থান রক্ষার ক্ষেত্রে যে বাস্তব চ্যালেঞ্...
কম বয়সী শিশুদের সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে
বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি থাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চার দিনের সরকারি চীন সফরে বাণিজ্য ও সবুজ প্রযুক্তি
বিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রত্যা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর সফল হয়েছে। এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি ...