মালদ্বীপের মিনিস্ট্রি অব হেলথে জয়েন করার পর ৮০ দিনে রোগী দেখছি ৮০০ জন।
এভারেজ দিনে দশ থেকে ১৫ জন রোগী দেখতে হয় আমাকে।একদিন সর্বোচ্চ ২৫ জন রোগী দেখা লাগছে আমার।
৮ ঘন্টার শিফটে এক ঘন্টা লাঞ্চ বা ডিনার ব্রেক,আধা ঘন্টা কফি/টি ব্রেক।তারমানে ৮ ঘন্টার শিফটে আমি কাজ করি সাড়ে ৬ ঘন্টা।
সাড়ে ৬ ঘন্টায় যদি দশ জন রোগী দেখা লাগে তাহলে প্রতি রোগীকে আমি ৩৯ মিনিট সময় দিতে পারি।
আধা ঘন্টা খুব ইজিলি দেওয়া যায়।
কোন রোগী দেখা নিয়ে আমার তাড়াহুড়া করতে হয়না।
ধীরেসুস্থে রোগীর সব কথা শুনে,ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন সেরে তারপর চিকিৎসা দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় মিলে।
আমি এখন যেই হেলথ সেন্টারে পারমানেন্ট পোস্টিং পেয়ে কাজ করছি,সেখানে আমরা দুইজন ডাক্তার পোস্টেড।
আজকের এই মুহুর্ত অব্দি দুইজনে রোগী দেখছি মোট ২৭ জন।আমি ১২ জন দেখছি পুরো ইভেনিং শিফটে,মর্নিং শিফটে আমার কলিগ ১৫ জন দেখে গেছে।
এখন বলুন কোন রোগী কিভাবে অভিযোগ দিবে যে,ডাক্তার সময় দেয়না?ডাক্তার কথা শুনেনা এটা বলার সুযোগ কি আছে?
আমি এখানে মাসে যেই স্যালারি পাই,সেটা বাংলাদেশের একজন ৯ম গ্রেডের বিসিএস চিকিৎসকের ৭ মাসের বেতনের সমান।
বাংলাদেশে উপজেলা গুলোতে একজন চিকিৎসককে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে একশো রোগী দেখা লাগে।
একশো রোগীর কথা শুনা, হিস্ট্রি নেওয়া,এক্সামিনেশন করা, টেস্ট রিপোর্ট ইভালুয়েট করা,চিকিৎসা দেওয়া,এডভাইজ দেওয়া, কাউন্সেলিং করা কিভাবে সম্ভব এই সময়ের মধ্যে?
একশো প্রেসক্রিপশন হাতে লিখতে কত সময় লাগা উচিত বলে মনে করেন আপনারা?
তাছাড়া সাপোর্টিভ কয়জন স্টাফ থাকে একজন ডাক্তারের জন্য?
আমার বাংলাদেশের একজন কলিগ আমার চেয়ে দশ গুন বেশি রোগী দেখে আমার বেতনের ৭ ভাগের এক ভাগ স্যালারি পায়, তখন সে আপনাকে কতটা সেবা দিতে সক্ষম হবে ভেবে দেখবেন প্লিজ।
আমি এই আইল্যান্ডে আসার পর একদিন ৭ জন রোগী এডমিট করেছি।
একটা বাচ্চা ছিলো এজমার,বাকি ৬জন ডেঙ্গু রোগী।
মিনিস্ট্রি দেখলো এই হেলথ সেন্টারের ৭টা বেড ফিলাপ।
তারা ডাইরেক্টরকে কল দিয়ে ব্যাখ্যা চাইলো আমার থেকে।
আমি প্রতিটি রোগী গাইড লাইন অনুযায়ী এডমিশন ক্রাইটেরিয়া মেনে এডমিট করেছি কিনা।
আমি ব্যাখ্যা দিলাম।তারা সন্তুষ্ট হলো।
তারা তখন আমাকে জানালো,যেহেতু এখানে আর বেড খালি নেই,নেক্সট এডমিশন দেওয়ার মতো পেশেন্ট আসলে এটল হসপিটালে রেফার করতে।
নীচের ছবিটা খেয়াল করুন।
কোন মানুষ এভাবে চিকিৎসা নিতে পারে?
ফ্লোরে শুয়ে একটা দেশের নাগরিক কেন চিকিৎসা নিবে?
কেন একশো বেডের হাসপাতালে ৫০০ রোগী থাকবে?
কিভাবে একশো বেডের হাসপাতালের ডাক্তার নার্স অন্যান্য স্টাফ দিয়ে আপনি ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন?
এদেশের মানুষের জীবনের মূল্য এত সস্তা কারা করলো?
এদেশের মানুষকে পশুর মতো ট্রিট করছে কারা?
মালদ্বীপে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া কোন মানুষের একটা প্যারাসিটামল কিনে খাওয়ার সুযোগ নেই।
সেখানে আমার দেশের একজন ডেঙ্গু পজেটিভ রোগীকে স্টেরয়েড ও ব্যথার মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা করছে LMAF নামক হাতুড়ে ডাক্তার।
একজন ডেঙ্গু রোগীকে ব্যথার মেডিসিন ও স্টেরয়েড দেওয়া কবীরা গুনাহ।
এই রোগীর ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার হয়ে মারা গেলে এর দায় কি সেই LMAF নিবে?
দায় নেওয়ার কথা পরে, কিভাবে একজন হাতুড়ে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখতে পারেন,অপচিকিৎসা ও মারাত্মক ভুল চিকিৎসা দিতে পারেন?
দুনিয়ার কোথাও মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা সম্ভব?
ডাক্তার বেশি টেস্ট দেয়।
ডাক্তার কমিশন খায়।
ডাক্তার আজেবাজে কোম্পানির মেডিসিন লিখে।
ডাক্তার রোগীর কথা শুনেনা।
এসব অভিযোগ ঢালাওভাবে সত্য না।
কিন্তু এসব অভিযোগ ভিত্তিহীনও না।
কিন্তু কে নির্ধারণ করবে কোন রোগীর কয়টা টেস্ট লাগবে?
কোন রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসা কি?
সিস্টেমের গোড়ায় হাত দেন।
সিস্টেম টা ভুলে ভরা।
সিস্টেমটা আপনাকে মানুষ হিসেবে, দেশের মালিক হিসেবে ট্রিট করছেনা সেটা ভেবে দেখেছেন?
আপনি যেই নেতার পেছনে মিছিল দেন,যেই নেতার জন্য অন্য মানুষের মাথা ফাটান,সেই নেতা ও তার পরিবার সন্তানরা সবাই বিদেশে চিকিৎসা নেয়।
বাংলাদেশের কোন এমপি কোনদিন উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে?
বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী কোনদিন জেলা সদর হসপিটালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে?
এমপি মন্ত্রীদের স্ত্রী পুত্র কন্যা পরিজনরা কোনদিন উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে?
নেতারা চিকিৎসা নিবেন বিদেশে, নেতারা লুটপাট করবেন,আর আপনার সন্তানকে সরকারি হাসপাতালে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হবে, আপনি আবার সেই নেতার জন্য গলা ফাটান।
এজন্যই আপনাদের কপালে জুটে LMAF,আপনাদের সন্তানদের জন্য জুটে ফ্লোর।
সিস্টেমের গোড়ায় হাত না দিয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে মনের জ্বালা মিটাতে পারবেন কিন্তু কোনদিন বাংলাদেশের হেলথ সিস্টেমে আপনি মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
এর দায় কোন ডাক্তারের না,আপনারা যাদের জন্য গলা ফাটান, ভোট বাক্স দখল করেন, দিনের ভোট রাতে দেন,সব দায় তাদের।সাথে অনেক দায় আমলাদের।
যাদের দায়, তাদের টুটি চেপে যেদিন ধরতে পারবেন,
যেদিন আপনাদের এমপি মন্ত্রীদেরকে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করতে পারবেন সেদিন বাংলাদেশের হেলথ সিস্টেমে আপনি মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবেন,তার আগে নয়।
ফেসবুক টাইমলাইন থেকে
ইসরায়েলের
আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন
নেতানিয়াহুকে সরানোর সুযোগ পাবে বিরোধীরা। কিন্তু
এতে বিরোধী শিবিরেরই একাংশের আপত্তি আছে। নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক
ভোট ও আসন পাওয়া
আরব দ...
ভারতে
নারীর বিরুদ্ধে করা অপরাধে সবচেয়ে
বেশি অভিযুক্ত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য ও
বিধায়কেরা। ভারতে নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে
গবেষণা করে এমন একটা
সর্বভারতীয় সংস্থা এক সমীক্ষায় এমন
তথ্...
ভারতের
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদের
পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৭০০টি
পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
এদের প্রায় সবাই মুসলিম। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা
গেছে, মস...
ভারতের
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং জোর করে
দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে ধর্মীয় আচার
পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
একটি পরিবারের এক নারীক...
ইয়েমেনে
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির
মুখে আবারও তাদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের কয়েকটি
সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে,
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হ...
মধ্যপ্রাচ্যে
নানা দেশের মধ্যে অশান্তি সত্ত্বেও সৌদি আরব দীর্ঘদিন
ধরেই নিজেকে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল
হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিল।কিন্তু
সৌদির রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা ...
কারাবন্দি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার পর রোববার (১১ অক্টোবর)
পাকিস্তানের পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ...
যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের পথে এগিয়ে চলেছে। হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও ধর্মীয় স্থান রক্ষার ক্ষেত্রে যে বাস্তব চ্যালেঞ্...
কম বয়সী শিশুদের সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে
বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি থাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চার দিনের সরকারি চীন সফরে বাণিজ্য ও সবুজ প্রযুক্তি
বিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রত্যা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর সফল হয়েছে। এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি ...