যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আজ বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক এই শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের উপস্থিত থাকার ঘটনা নজিরবিহীন।
হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যেসব শিশুর বাবা-মা অবৈধভাবে কিংবা সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাদের সন্তানরা আপনা-আপনিই মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না।
এর আগে নিম্ন আদালতগুলো ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে স্থগিত করে দেয়। আদালত জানায়, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ‘নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী, মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেকেই সে দেশের নাগরিক।
সংশোধনীতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্ব পাওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই মার্কিন নাগরিক।’ তবে এটি বিদেশি কূটনীতিক বা সার্বভৌম আদিবাসী আমেরিকানদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেখানে যাচ্ছি।’ ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিল গোরসাচের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে নিজের প্রশাসনের লড়ে যাওয়া কোনো মামলার শুনানিতে প্রেসিডেন্টের উপস্থিত হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৬১-১৮৬৫ সালের গৃহযুদ্ধের পর পাস হওয়া এই চতুর্দশ সংশোধনী মূলত সাবেক দাসদের নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। এটি অবৈধ অভিবাসী বা সাময়িক দর্শনার্থীদের সন্তানদের জন্য নয়। আদেশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যারা অবৈধভাবে বা ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তারা দেশটির পূর্ণ এখতিয়ারভুক্ত নন। তাই তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে পারে না।
অবশ্য ১৮৯৮ সালে ওং কিম আর্ক নামের এক ব্যক্তির মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকত্বের এমন সংকীর্ণ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ১৮৭৩ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া আর্কের বাবা-মা চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
চীন ভ্রমণ শেষে ১৮৯৫ সালে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে যান, তখন ‘চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় তাকে পুনরায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হওয়ার কারণে ওং কিম আর্ক জন্মসূত্রেই একজন মার্কিন নাগরিক।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়-এর আইনের অধ্যাপক স্টিভেন শোয়িন বলেন, আদালত সম্ভবত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেবে।
তিনি বলেন, ‘এই আদালত সংবিধান বোঝার ক্ষেত্রে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে নজর দেয়। দেড়শ বছর পর হঠাৎ করে যদি দেখা যায় আমরা নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদের ভুল প্রয়োগ করছি, তবে তা হবে বিস্ময়কর।’
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীলদের ৬-৩ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার বলেছেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ’ করতে হবে এবং দেশটির ‘পূর্ণ এখতিয়ারভুক্ত’ হতে হবে।
আদালতে জমা দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে সাউয়ার বলেন, ‘সাময়িকভাবে অবস্থানরত বিদেশি বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ব্যক্তি কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত হবেন, যদি তিনি দেশটির প্রতি যথেষ্ট অনুগত থাকেন এবং রাষ্ট্রের কাছে সুরক্ষা দাবি করতে পারেন।’
সাউয়ার আরও দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের আপনা-আপনিই নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে এবং এটি ‘বার্থ ট্যুরিস্টদের’ জন্য একটি বড় প্রলোভন।
সুপ্রিম কোর্ট যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে চলতি মেয়াদে এটি হবে ট্রাম্পের জন্য দ্বিতীয় বড় পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত তার বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল।
ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ‘বড় জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন। গত মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি বিচারকদের ‘বোকা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
অন্যদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে লড়াই করা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের জাতির সাংবিধানিক ভিত্তি বদলে দিতে চাইছে। এই ভিত্তিহীন যুক্তি গ্রহণ করা হলে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোটি কোটি আমেরিকানের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এএফপি, ওয়াশিংটন থেকে
ইরানের
দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে বাহরাইন
ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন সামরিক
লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।এর আগে যুক্...
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের আগে তুরস্কে কয়েক
হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র
চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর নেতারা।
মূলত ইউরোপের প্রতিরক্ষায় নিজেদ...
চীন
সোমবার (৬ জুলাই) একটি সাবমেরিন থেকে
প্রশান্ত মহাসাগরে প্রশিক্ষণমূলক ডামি ওয়ারহেড বহনকারী
একটি ‘কৌশলগত’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছে।কৌশলগতভাবে
গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্...
ইয়েমেনের
বন্দরনগরী হোদেইদাহের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান–সমর্থিত হুতি
বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১৪ সরকারি সেনা
নিহত হয়েছেন। ইয়েমেন সরকারের এক সামরিক কর্মকর্তা
আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত
...
আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তাদের মিত্র
তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার (৪ জুলাই) মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত
হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাস আগে
একই ধরনের হামলায় দেশটির সামরিক জান্তাকে বড় ধাক্কা দ...
ইউক্রেনের
পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের দাবি
করেছে রাশিয়া। গত শুক্রবার রুশ
সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানায়, দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর শহরটি তা...
যুক্তরাষ্ট্র
শনিবার (৪ জুলাই) ২৫০ বছরে পদার্পণ
করেছে। তবে স্বাধীনতার এই
ঐতিহাসিক বার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের
প্রেক্ষাপটে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প এ উদ্যাপনের কেন্...
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং লোহিত সাগরে উত্তেজনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের নৌপথের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। সমুদ্র ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন বিশ্বজুড়ে কন্টেইনারবাহী জাহাজের যাতায়াতের প্রধ...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চার দিনের সরকারি চীন সফরে বাণিজ্য ও সবুজ প্রযুক্তি
বিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রত্যা...
ফিলিস্তিনের
স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস প্রায় দুই দশক ধরে গাজা উপত্যকা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক
সংস্থাটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে য...